খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই জুন ২০২৬, ৪:৪০ পিএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ফুটবল দলের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এক কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। একটি স্থানীয় দিঘিতে একসঙ্গে গোসল করতে নেমে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই কিশোর পলাতক রয়েছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে।
Table of Contents
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ‘হাওয়া দিঘি’ (কোনো কোনো সূত্রে হাওয়াই দিঘি)-তে তিন বন্ধু একসঙ্গে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ফুটবল দলের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথা কাটাকাটি ও তর্কের সৃষ্টি হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হলে সাকিব ও রিফাত নামের দুই কিশোর মিলে তাদের অপর বন্ধু রাহাদ মিয়াকে (১৬) পানির নিচে জোরপূর্বক চুবিয়ে ধরে। দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে চুবিয়ে রাখার কারণে একপর্যায়ে রাহাদ মিয়া অচেতন হয়ে পড়ে এবং দিঘির পানিতেই তার মৃত্যু ঘটে।
রাহাদ অচেতন হয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত দুই কিশোর অনতিবিলম্বে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা রাহাদকে উদ্ধার করেন এবং সে জীবিত রয়েছে ভেবে তাৎক্ষণিকভাবে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহত ও অভিযুক্তরা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরস্পরের পরিচিত বলে জানা গেছে। নিচে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নাম |
| ঘটনার স্থান | হাওয়া দিঘি (হাওয়াই দিঘি), রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদর। |
| ঘটনার তারিখ ও সময় | মঙ্গলবার, ১৬ জুন; বিকাল আনুমানিক ৫:৩০ ঘটিকা। |
| নিহত কিশোর | রাহাদ মিয়া (বয়স ১৬ বছর)। |
| নিহতের পারিবারিক পরিচয় | পিতা: মকবুল হোসেন, গ্রাম: তরফকাল, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন। |
| প্রধান অভিযুক্ত-১ | সাকিব (পিতা: জবান আলী), একই এলাকা। |
| প্রধান অভিযুক্ত-২ | রিফাত (পিতা: সাইদুল ইসলাম), একই এলাকা। |
| তর্কের মূল বিষয় | আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরিত; অভিযুক্তরা পলাতক। |
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহত কিশোর রাহাদ মিয়ার মরদেহ বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেন যে, ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই রাহাদের মৃত্যুর প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট কারণ আইনগতভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোর সাকিব ও রিফাত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য