পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে এক প্রাইভেট কারের চালককে মারধর করে গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে বাউফল পৌর শহরের সদর রোডে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদকে একটি আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে।
Table of Contents
ঘটনার বিবরণ ও চালকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী রাজিব হোসেন তার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারে করে কালাইয়া পূবালী ব্যাংক শাখায় টাকা জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক মো. শাহিন মিয়া। চালক শাহিন মিয়ার দাবি অনুযায়ী, পৌর শহরের সদর রোডে যানজটের সৃষ্টি হলে তাঁর গাড়ির পেছন দিক থেকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল দিয়ে কয়েক দফা ধাক্কা দেন।
গাড়িতে মোটরসাইকেলের ধাক্কা দেওয়ার বিষয়টি চালক শাহিন মিয়া জানতে চাইলে ফাহাদ ক্ষুব্ধ হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে রেখে চালক শাহিন মিয়াকে মারধর করা শুরু করেন। প্রাইভেট কারের চালক আরও অভিযোগ করেন যে, তার গাড়িটি অভিযুক্তের মোটরসাইকেলের পাশ দিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আবদুল্লাহ আল ফাহাদ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে গাড়ি থামিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে তাকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় এবং জোরপূর্বক গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হয় ও গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটার সময় বাউফল পৌর শহরের সদর রোডে উপস্থিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মোবাইল ও ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করতে যান। অভিযোগ উঠেছে যে, ভিডিও ধারণ করার সময় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের কাজে চরম বাধা প্রদান করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি অনুযায়ী, তাদের উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ধারণকৃত ভিডিও অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী সাজিদের নামও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। সাজিদের বিরুদ্ধে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে তীব্র চাপ প্রয়োগ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বক্তব্য
তার বিরুদ্ধে ওঠা মারধর, গাড়ি ছিনতাই এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন যে, ঘটনার সময় তিনি তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে একটি গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে একটি দ্রুতগামী প্রাইভেট কার তার মোটরসাইকেলের খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করায় তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও আশঙ্কার তৈরি হয়।
canএই বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে ওই প্রাইভেট কারের চালক উল্টো তার হাত ধরেন বলে ফাহাদ দাবি করেন। চালকের এমন আচরণের পর তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। তবে কোনো প্রকার মারধর, গাড়ি ছিনতাই কিংবা সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া এবং গালিগালাজ করার অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
ছাত্রদল কর্মী সাজিদের দাবি ও পরিস্থিতি
এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী সাজিদ। তিনি দাবি করেন যে, ঘটনার সময় প্রাইভেট কারের চালক ও আরোহীদের পক্ষ থেকে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতির সাথে চরম অসৌজন্যমূলক ও উসকানিমূলক আচরণ করা হয়েছে।
সাজিদ তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সময় সভাপতির স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন এবং ওই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে যে কেউ উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারতেন। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার বা ভয়ভীতি দেখানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনি এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
