খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় উপজেলায় পৃথক দুটি সেনা অভিযানে সশস্ত্র একটি গোষ্ঠীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময় পরিচালিত এসব অভিযানে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৫৯ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে পানছড়ি উপজেলার বরকলক এলাকায় প্রথম অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর টহল দল ওই এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র সদস্যরা হঠাৎ করে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষের এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর কৌশলগত অবস্থান ও চাপের মুখে সশস্ত্র দলের দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। পরে তাদের কাছ থেকে দুটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১৩২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুরো এলাকা ঘিরে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।
অন্যদিকে, বুধবার সকাল আনুমানিক দশটার দিকে রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় আরেকটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে সেনা টহল দল পৌঁছালে আবারও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় সেনারা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।
সংক্ষিপ্ত সময়ের এই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই এক সশস্ত্র সদস্য নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। পরে এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান, ২৭ রাউন্ড গুলি এবং কিছু সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। দুর্গম ভূখণ্ড হওয়ায় অভিযানটি বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দেখা যায়, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে আসছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আরও জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা দমন করার লক্ষ্যেই এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য