জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

বড়লেখা সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার

মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক এবং বিস্ফোরণ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচারের চেষ্টা প্রতিরোধে চালানো এই অভিযানে কোনো ব্যক্তি আটক না হলেও বড় ধরনের অস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের (৫২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত রাতে বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ৫২ বিজিবির অধিনায়কের নেতৃত্বে বিওসিটিলা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। টহল চলাকালে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করা হয়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এরপর পুরো এলাকা ঘিরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে সীমান্ত পিলার ১৩৮৫/এম থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি বিদেশি পিস্তল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় তিন কেজি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘পাওয়ার জেল নাইনটি’ বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তৈরির তার এবং দুটি কুকরি চাপাতি।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটরের একসঙ্গে উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এ ধরনের উপকরণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিবহন হলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা

সামগ্রীর নামপরিমাণ
বিদেশি পিস্তল৩টি
পাওয়ার জেল নাইনটি বিস্ফোরক৩ কেজি
বিস্ফোরকের টিউব২৩টি
ডেটোনেটর২৪টি
ডেটোনেটর তৈরির তার১৫ মিটার
কুকরি চাপাতি২টি
অভিযানের সময়রাত সাড়ে ৩টা
অভিযান পরিচালনাকারী ইউনিট৫২ বিজিবি
সীমান্ত পিলার১৩৮৫/এম
উদ্ধারস্থলসীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে
অভিযানের ধরনগোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিতভাবে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধচক্রের তৎপরতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্ত এলাকায় যেকোনো অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে।

Tags :

Md. Sakib

Recent News