খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুন ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

পুনর্বীমা-সংক্রান্ত কিছু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ার বীমা প্রতিষ্ঠান পিটি আসুরানসি টোকিও মেরিন ইন্দোনেশিয়া (টিএমআই) আগামী কয়েক বছরে শক্তিশালী মূলধন অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এএম বেস্ট। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক মুনাফা, অভ্যন্তরীণ মূলধন সঞ্চয় এবং সতর্ক বিনিয়োগ কৌশল কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তিকে দৃঢ় রাখছে।
এএম বেস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বেস্টস ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও (বিসিএআর) মডেলে টিএমআইয়ের মূলধন সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। শক্তিশালী মূলধন কাঠামোর পাশাপাশি কোম্পানিটির পর্যাপ্ত তারল্য ও কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও এর আর্থিক অবস্থানকে সমর্থন দিচ্ছে।
২০২৫ সালে অর্জিত পুরো মুনাফা কোম্পানির ভেতরেই সংরক্ষণ করায় শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এএম বেস্টের মতে, নিয়মিত মুনাফা অর্জন এবং সেই মুনাফা থেকে মূলধন শক্তিশালী করার সক্ষমতা ভবিষ্যতেও টিএমআইয়ের আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান অনুসরণ করছে। তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর বড় অংশ সরকারি বন্ড, নগদ অর্থ এবং ব্যাংক আমানতভিত্তিক। ফলে বাজারের অস্থিরতা বা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের মূল্যহ্রাসের প্রভাব সীমিত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে মূল্যায়নে কিছু সতর্কবার্তাও দিয়েছে এএম বেস্ট। সংস্থাটি বলছে, টিএমআই এখনও পুনর্বীমার ওপর মাঝারি মাত্রায় নির্ভরশীল। পাশাপাশি কোম্পানিটির কিছু ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশীয় বীমা ও পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, যাদের আন্তর্জাতিক আর্থিক সক্ষমতার রেটিং নেই। এ কারণে কাউন্টারপার্টি ক্রেডিট ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে বিবেচিত হচ্ছে। কোনো অংশীদার প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়লে তার প্রভাব টিএমআইয়ের কার্যক্রমেও পড়তে পারে।
অন্যদিকে পরিচালন কার্যক্রমে কোম্পানিটির পারফরম্যান্স ইতিবাচক রয়েছে। এএম বেস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টিএমআইয়ের কম্বাইন্ড রেশিও ছিল ৮৪ শতাংশ। বীমা খাতে ১০০ শতাংশের নিচে কম্বাইন্ড রেশিওকে সাধারণত শক্তিশালী আন্ডাররাইটিং ফলাফলের নির্দেশক হিসেবে ধরা হয়। এটি দেখায় যে দাবি পরিশোধ ও পরিচালন ব্যয়ের পরও কোম্পানি লাভজনক অবস্থানে রয়েছে।
সুদভিত্তিক বিনিয়োগ থেকেও প্রতিষ্ঠানটি স্থিতিশীল আয় পাচ্ছে। ফলে বীমা ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ আয়ও কোম্পানির সামগ্রিক মুনাফাকে শক্তিশালী করছে।
| সূচক | তথ্য |
|---|---|
| কোম্পানি | পিটি আসুরানসি টোকিও মেরিন ইন্দোনেশিয়া (টিএমআই) |
| মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান | এএম বেস্ট |
| মূলধন সক্ষমতা | বিসিএআর মডেলে সর্বোচ্চ স্তর |
| মূল্যায়নের সময় | ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ |
| ইকুইটি বৃদ্ধি | ২১ শতাংশ |
| কম্বাইন্ড রেশিও | ৮৪ শতাংশ |
| বাজার অংশীদারিত্ব | ২ শতাংশ |
| প্রধান বিনিয়োগ | সরকারি বন্ড, নগদ অর্থ, আমানত |
| মূল ব্যবসা | অগ্নি, সামুদ্রিক ও মোটর বীমা |
| প্রধান শক্তি | শক্তিশালী মূলধন ও ধারাবাহিক মুনাফা |
| প্রধান ঝুঁকি | পুনর্বীমা নির্ভরতা |
| অতিরিক্ত ঝুঁকি | কাউন্টারপার্টি ক্রেডিট ঝুঁকি |
এএম বেস্ট টিএমআইয়ের ব্যবসায়িক অবস্থানকে ‘সীমিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, কারণ ইন্দোনেশিয়ার নন-লাইফ বীমা বাজারে কোম্পানিটির অংশীদারিত্ব মাত্র ২ শতাংশ। তবে বাজারে অবস্থান তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও প্রতিষ্ঠানটি অগ্নি, সামুদ্রিক এবং মোটর বীমা খাতে বৈচিত্র্যময় ব্যবসায়িক পোর্টফোলিও গড়ে তুলেছে, যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এ ছাড়া টোকিও মেরিন হোল্ডিংসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিএমআই অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ায় কার্যরত জাপানি কোম্পানি ও বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির বীমা কাভারেজে আন্তর্জাতিক গ্রুপটির অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক কোম্পানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, পুনর্বীমা ও অংশীদার-নির্ভর কিছু ঝুঁকি থাকলেও শক্তিশালী মূলধন, লাভজনক আন্ডাররাইটিং কার্যক্রম এবং রক্ষণশীল বিনিয়োগ নীতির কারণে টিএমআইয়ের আর্থিক ভিত্তি স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছে এএম বেস্ট।
মন্তব্য