ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য: ঢাবি কর্তৃপক্ষের তীব্র নিন্দা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার অত্যন্ত অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত শনিবার বরগুনার পাথরঘাটায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতার দেওয়া ওই মন্তব্যকে ‘অশ্লীল ও অর্বাচীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই ধরণের মন্তব্য কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকে নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্রকে চরমভাবে অপমান করেছে।

আপত্তিকর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট

ঘটনার সূত্রপাত হয় বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত একটি জনসভায়। সেখানে জামায়াতের বরগুনা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান বক্তব্য দেওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বিশেষণ ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ডাকসুর নেতৃত্বে আসার আগে তা ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ ছিল। তাঁর এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনা ও ঢাবি প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

তথ্যের বিবরণবিস্তারিত তথ্য
বক্তব্য প্রদানকারীমো. শামীম আহসান (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, বরগুনা জেলা জামায়াত)।
বক্তব্যের প্রেক্ষাপটবরগুনা-২ আসনের নির্বাচনী জনসভা।
বক্তব্যের বিষয়বস্তুডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া।
ঢাবি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়াবক্তব্যকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন’ হিসেবে প্রতিবাদ।
প্রধান দাবিঅবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা।
প্রশাসনিক বার্তাবিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নকারী বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ

রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা এক বিবৃতিতে এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। ডাকসুর ইতিহাস এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একজন নেতার মুখে এমন ‘অবাঞ্ছিত ও অশালীন’ ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্যের পরিপন্থী।

প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ঐতিহ্যকে চরমভাবে আঘাত করেছে। ডাকসু থেকে উঠে আসা অসংখ্য কৃতি সন্তানের অবদানকে এই ধরণের মন্তব্যের মাধ্যমে খাটো করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি

ঢাবি প্রশাসন অবিলম্বে ওই জামায়াত নেতাকে তাঁর কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অর্বাচীন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় এ ধরণের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাঁরা সর্বদা সোচ্চার থাকবেন।

উপসংহার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রতীক। ডাকসু এই চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজনৈতিক মঞ্চে জনপ্রিয়তা পাওয়ার নেশায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে নিয়ে এমন নোংরা ভাষা ব্যবহার করা অত্যন্ত নীচ মানসিকতার পরিচয়। কর্তৃপক্ষের এই প্রতিবাদী অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করা হবে না।