খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩১ পিএম

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় এক শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আজহার মিয়ার বিরুদ্ধে। ১০ বছর বয়সী ওই চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত আজহার মিয়া মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের মেটংঘর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আব্দুল জলিল মেম্বারের ছেলে। গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মেটংঘর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আজহার মিয়া কৌশলে ওই অবুঝ শিশুকে ফুসলিয়ে নিজের মালিকানাধীন একটি পোল্ট্রি খামারের পাশে অবস্থিত টিনশেড ঘরে নিয়ে যান। সেখানে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে শিশুটির ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্যাতনের একপর্যায়ে আক্রান্ত শিশুটির আকুল আর্তচিৎকার ও কান্না শুনে তার পরিবারের সদস্য এবং আশপাশের কয়েকজন প্রতিবেশী দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত আজহার মিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার পেয়ে ভুক্তভোগী শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়।
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক সেতু দেবনাথের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই চিকিৎসকের মাধ্যমে শিশুটির রক্তপাত বন্ধের প্রাথমিক চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ওই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক সেতু দেবনাথও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অসামাজিক ও সন্দেহজনক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জামায়াত নেতা আজহার মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও নানা ধরনের অপকর্ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি গ্রামের অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিত্তশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় প্রতিবারই বিপুল পরিমাণ অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে গেছেন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে ওঠা বেশ কিছু অপরাধের ঘটনা এভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রথমে লোকলজ্জা ও সামাজিক প্রভাবের ভয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ শেষে শিশুটির বাবা ন্যায়বিচারের আশায় বাঙ্গরা বাজার থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঙ্গরা বাজার থানার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজহার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তার প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন, তবে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে, দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঙ্গরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এই বিষয়ে দলটির আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল এই জঘন্য অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য