খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম

রংপুরের পীরগাছায় ১০ বছর বয়সী এক তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার পাওটানা হাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত শহিদুল উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের প্রতিপাল গ্রামের শমেস উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পর্কে সে ভুক্তভোগী শিশুটির প্রতিবেশী দাদা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফত জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মাছ ধরার কথা বলে ওই শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় শহীদুল ইসলাম। সেই সময় বাড়িটি জনশূন্য ছিল। এই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে সে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চলায়। একপর্যায়ে শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শহীদুল ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার বিষয়টি পীরগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করে। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ দ্রুত মাঠে নামে। বিকেল গড়াতেই থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল উপজেলার পাওটানা হাট এলাকায় অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে পলাতক শহীদুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে পীরগাছা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় সমাজকর্মীদের মতে, করোনাকালীন সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ এলাকায় শিশু ও নারীদের ওপর এই ধরনের সহিংসতার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পরিচিত বা আত্মীয়দের দ্বারা শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এই ধরনের মামলায় অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে গ্রামীণ জনপদে শিশুদের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তাকে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য