খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫২ পিএম

মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী হেফাজত থেকে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগমকে অবশেষে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করার পর শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে মাদারীপুরে এনে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে মাদারীপুর সদর মডেল থানার বারান্দার একটি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান ৩৫ বছর বয়সী হাসিনা বেগম। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার থানতলী এলাকার বাসিন্দা এবং সদর উপজেলার কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাসিনা বেগমকে আটক করেন। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। তবে থানার মূল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় বর্তমানে ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে কোনো স্থায়ী হাজতখানা না থাকায় তাকে পুলিশি পাহারায় বারান্দার একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল।
রাতের একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে এবং সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় যে হাসিনা বেগম ঢাকায় অবস্থান করছেন। এরপর মাদারীপুর সদর মডেল থানার একটি বিশেষ দল কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে থানায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। শুক্রবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিকনাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় দায়িত্বরত এসআই রমজান আলীসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
থানা হেফাজত থেকে কোনো আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য