খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদহ পূর্বপাড়া লালগোলা এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তুহিন খাঁ (২০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল প্রায় ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তুহিন খাঁ সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের টাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাবিবুর রহমান ওরফে হাবি খার ছেলে। তাঁর শ্বশুর আকতার হোসেন বর্তমানে দুবাইপ্রবাসী এবং স্ত্রী আফসানা খাতুন নলদহ লালগোলা এলাকায় বসবাস করেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার তুহিন শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে স্ত্রী আফসানার সঙ্গে তাঁর পারিবারিক বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এরপর রাতের কোনো এক সময়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। শনিবার সকালে স্থানীয়রা শ্বশুরবাড়ির পাশের ডোবায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় দেখা যায়, তাঁর গলায় একটি গামছা পেঁচানো ছিল।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, তুহিন রাতে একটি মসজিদের বারান্দায় আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর সময় মরদেহ সেখানে পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মরদেহটি পুকুরের ডোবায় ফেলে দেন। পরে সকালে সেটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাটির প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ মুহূর্তে আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সম্ভাবনা—কোনোটিই তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তুহিন মাদকাসক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়িতে তাঁর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধেরও তথ্য মিলেছে। তবে এসব তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশা, তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর তুহিন খাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
প্রয়োজনে আমি এটিকে আরও সংবাদপত্র-উপযোগী, টেলিভিশন স্ক্রিপ্টধর্মী বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের স্টাইলে রূপান্তর করতে পারি।
মন্তব্য