খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম

কুমিল্লায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ও অননুমোদিত ওষুধ, ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল এবং উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নকল ওষুধ তৈরি ও সরবরাহের চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডসংলগ্ন শ্রীবল্লভপুর এলাকায় একটি সন্দেহভাজন পিকআপ ভ্যানে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদে তারা জানতে পারেন যে একটি চক্র পিকআপ ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ কোথাও পাচারের চেষ্টা করছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা দল শ্রীবল্লভপুর এলাকায় ওই পিকআপ ভ্যানটি আটকে তল্লাশি শুরু করে।
তল্লাশিকালে গাড়িটি থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি করা অননুমোদিত ও ক্ষতিকর বিপুল পরিমাণ নকল ক্যাপসুল, ট্যাবলেট এবং সিরাপ উদ্ধার করা হয়। গণনাকালে সেখানে মোট ১৮ হাজার ৬৬০ পিস তৈরি ওষুধ পাওয়া যায়।
ওষুধ ছাড়াও গাড়িটির ভেতর থেকে নকল ওষুধ তৈরির বিশাল কাঁচামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
প্রায় ১০০ কেজি ওষুধ তৈরির কেমিক্যাল পাউডার
৭ লিটার তরল কেমিক্যাল
বিভিন্ন নামী ব্যান্ডের মোড়ক নকল করে তৈরি করা প্রায় ২০ হাজার ওষুধের লেবেল
১৫ কেজি ওষুধের পাতা তৈরির ফয়েল পেপার
নকল ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৩টি ছোট-বড় মেশিন
এই জালিয়াতি ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ অপরাধের সঙ্গে হাতেনাতে জড়িত থাকার অভিযোগে জুনায়েদ ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীনিবাস এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুনায়েদ এই নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিভিন্ন ফার্মেসিতে সরবরাহের চক্রের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
অভিযান শেষ হওয়ার পর জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল ও সরঞ্জাম সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জেলা ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলামের উপস্থিতিতে জব্দকৃত জিনিসের একটি আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় জেলা ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি জুনায়েদ ইসলামকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হবে। এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত এবং তারা কোথায় এই নকল ওষুধ তৈরি করছিল, তা খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য