খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই জুলাই ২০২৬, ৪:২৯ পিএম

আয়কর নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা আইনি জটিলতার ভয় সৃষ্টি করে করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে করদাতাদের সতর্ক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বা অননুমোদিত মাধ্যমে যোগাযোগ করেন না। তাই এ ধরনের ফোনকল, খুদে বার্তা বা অন্য যেকোনো যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আগে অবশ্যই সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার সকালে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম আলো-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনবিআর জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে এক শ্রেণির প্রতারক করদাতাদের ফোন করে দাবি করছে যে তাঁদের আয়কর নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এরপর নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অথবা বিভিন্ন আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এনবিআর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কর নথি নিরীক্ষার জন্য কোনো ফাইল নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশ পাঠানো হয়। ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া বা অর্থ দাবি করার কোনো সুযোগ বা বিধান নেই। ফলে এমন দাবি এলে তা প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
করদাতাদের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এনবিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, কর, বকেয়া বা অন্য যেকোনো সরকারি ফি কেবল সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া যায়। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি বিকাশ, রকেট, নগদ কিংবা অন্য কোনো মোবাইল আর্থিক সেবা বা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে অর্থ গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন না। তাই ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ এলে তা প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে এনবিআর বলেছে, কোনো সন্দেহজনক ফোনকল, খুদে বার্তা বা ই–মেইল পেলে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা উচিত। এতে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।
যদি কেউ এনবিআরের কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারকের ব্যবহৃত ফোন নম্বর সংরক্ষণ রাখারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি, যাতে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয়। এনবিআর বলেছে, করদাতাদের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই কোনো অবস্থাতেই প্রতারকদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে না জড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে আয়কর নিরীক্ষার আওতায় আসা করদাতার সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, তিন দফায় নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করদাতার সংখ্যা ইতোমধ্যে এক লাখ অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ গত ২৯ জুন আরও ৫ হাজার ১৪ জন করদাতার আয়কর নথি নিরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়েছে।
এর আগে প্রথম দফায় গত বছরের জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৪৯৪ জন করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে দ্বিতীয় দফায় আরও ৭২ হাজার ৩৪১ জন করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার আওতায় আনা হয়। এসব নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ২০২৩–২৪ করবর্ষে জমা দেওয়া রিটার্নের ভিত্তিতে করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
কোনো করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছে কি না, সেটিও সহজেই যাচাই করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে এনবিআর তাদের ওয়েবসাইটে নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করদাতাদের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে প্রকাশিত এক্সেল তালিকায় নিজের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সহজেই জানতে পারবেন তাঁর রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছে কি না। এ ছাড়া কোনো ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর কার্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
মন্তব্য