মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবও গোপনে ইরানের ভূখণ্ডে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং ইরানের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ দিকে সৌদি আরবের বিমানবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক পশ্চিমা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, সৌদি আরব নিজের ভূখণ্ডে হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি সরকার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি বা অস্বীকৃতি দেয়নি।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পূর্বে একটি প্রতিবেদনে জানায়। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (GCC) ছয়টি দেশের ওপর পাল্টা হামলা চালায়, যার মধ্যে সৌদি আরবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব হামলায় সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারও লক্ষ্যবস্তু হয়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে।
প্রধান ঘটনাপ্রবাহ (সংক্ষেপে)
| তারিখ/সময়কাল | ঘটনা | সংশ্লিষ্ট পক্ষ |
|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরু | যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান |
| মার্চ ২০২৬ | ইরানের GCC দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা | ইরান, GCC দেশসমূহ |
| মার্চের শেষ | সৌদি আরবের গোপন পাল্টা বিমান অভিযান (প্রতিবেদন অনুযায়ী) | সৌদি আরব, ইরান |
| একই সময় | সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাল্টা হামলার দাবি | সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান |
| ৭ এপ্রিল ২০২৬ | ওয়াশিংটন ও তেহরানের যুদ্ধবিরতি সম্মতি | যুক্তরাষ্ট্র, ইরান |
কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব
সংঘাত চলাকালে সৌদি আরব এবং ইরান উভয় দেশই এক পর্যায়ে উত্তেজনা কমানোর জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অঘোষিত সামরিক পদক্ষেপের পরও দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান-বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন উত্তেজনা বৃদ্ধি উভয় পক্ষের জন্যই অগ্রহণযোগ্য মূল্য ডেকে আনতে পারে—এ উপলব্ধি থেকেই উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রয়টার্স সৌদি আরব ও ইরান উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সরাসরি কোনো নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা উত্তেজনা প্রশমন, সংযম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পূর্ববর্তী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত Iran এবং Saudi Arabia এর মধ্যে এই ধরনের গোপন সামরিক কর্মকাণ্ড ও পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগ অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে।
