আত্মীয়বাড়ি সফরে নৌকাডুবিতে খালা ভাগনির মৃত্যু

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় আত্মীয়বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় খালা ও ভাগনির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোরী আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশকাকুনি ইউনিয়নের বিষম্ভপুর গ্রামের চিকনি বিলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কলহরি গ্রামের মো. হোসাইন মিয়া গত রোববার সন্ধ্যায় তার শ্বশুরবাড়ি পূর্বধলার বিষম্ভপুর গ্রামে বেড়াতে আসেন। তার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তার বড় বোন জমিলা খাতুন এবং আরেক বোন নুরজাহানের মেয়ে নুসরাত আক্তারসহ আরও কয়েকজন আত্মীয়।

পরদিন বিকেলে পরিবারের ছয়জন সদস্য চিকনি বিলে একটি ছোট কাঠের নৌকায় ঘুরতে বের হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, নৌকাটিতে একসঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে ডুবে যায়। এতে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন, তবে জমিলা খাতুন, নুসরাত আক্তার ও মিম আক্তার পানিতে ডুবে যান।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন এবং পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জমিলা খাতুন ও নুসরাত আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিম আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নিহত ও আহতদের পরিচয় নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—

নামবয়সপরিচয়ঠিকানাঅবস্থা
জমিলা খাতুন৩০ বছরখালাকলহরি গ্রাম, তারাকান্দা উপজেলামৃত্যু
নুসরাত আক্তার৮ বছরভাগনিহাসনপুর গ্রাম, গৌরীপুর উপজেলামৃত্যু
মিম আক্তার১২ বছরআত্মীয়বিষম্ভপুর গ্রাম, পূর্বধলা উপজেলাআহত, চিকিৎসাধীন

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ছিল ছোট কাঠের তৈরি এবং সেটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ ওঠানো হয়েছিল। ফলে মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ওঠার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয়ভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হয়।