খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই জুলাই ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম

ফরিদপুরে অটোরিকশাচালক নাঈম শেখ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আসমত শেখ ও সাগর মোল্লা। একই মামলার অপর আসামি আশিক শেখের বয়স কম হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক নাঈম শেখকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পরে হত্যার ঘটনা গোপন করার চেষ্টা হিসেবে নাঈমের মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
ঘটনার পরদিন, ২২ এপ্রিল নিহত নাঈম শেখের ভাই রাসেদ শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসমত শেখ, সাগর মোল্লা ও আশিক শেখকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৫ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। মামলার শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং আদালতে উপস্থাপন করা হয় সংশ্লিষ্ট নথি ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আসমত শেখ ও সাগর মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে একই মামলার অপর আসামি আশিক শেখের বিচার এখনো শেষ হয়নি। তার বয়স কম হওয়ায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিশু আদালতে পৃথক বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রমে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামির বিচার বয়সজনিত কারণে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।
অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময় উদ্বেগ দেখা যায়। বিশেষ করে যাত্রী পরিবহনের আড়ালে ছিনতাই বা হত্যার ঘটনা ঘটলে তা শুধু ভুক্তভোগী পরিবারকেই বিপর্যস্ত করে না, স্থানীয় পর্যায়েও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। নাঈম শেখ হত্যা মামলার রায় সেই প্রেক্ষাপটে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
আদালতের এই রায়ের ফলে দুই আসামির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়ের সমাপ্তি হলো। তবে মামলার তৃতীয় আসামির বিচার শিশু আদালতে শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো মামলার আইনি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
মন্তব্য