জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুলাই ২০২৬, ৯:২৬ এএম

চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং হয়রানি করার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। কেউ যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে থাকে, তবে তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম। মূলত অনলাইন জুয়াবিরোধী একটি বড় অভিযানের সাফল্য ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সমসাময়িক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জুলাই আন্দোলনের মামলার অগ্রগতি নিয়েও সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান জানান, জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত মোট ৫৯টি স্পর্শকাতর মামলা বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। প্রতিটি মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া যেন শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত হয়, সে লক্ষ্যে ডিবি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছে।
তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি ১৫ দিন পরপর এই মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুধু ডিবিই নয়, পুলিশ সদরদপ্তর থেকেও এই মামলাগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত যেন কোনোভাবেই পথ না হারায়, সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তরে একটি পৃথক এবং ডেডিকেটেড ‘মনিটরিং সেল’ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে।
গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম আশ্বস্ত করে বলেন, প্রতিটি মামলার তথ্য-উপাত্ত, ডিজিটাল এভিডেন্স এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে লজিস্টিক ও সায়েন্টিফিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে। তদন্তের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কোনো অবস্থাতেই যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ বা সাধারণ নাগরিক হয়রানির শিকার না হন, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে, কিন্তু কোনো নির্দোষ ব্যক্তির গায়ে যেন আঁচ না লাগে—সেটিই ডিবির প্রধান লক্ষ্য।
জুলাই আন্দোলনের মামলার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের একটি বিশাল সফল অভিযানের খতিয়ান প্রকাশ করা হয়। দেশে অবৈধ অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ডিবি পুলিশ একটি সংঘবদ্ধ ও অত্যন্ত চতুর চক্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন গোয়েন্দা পুলিশ উক্ত চক্রের কাছ থেকে সাড়ে ছয় হাজার (৬,৫০০) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট সংবলিত সিম কার্ড জব্দ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ সিম কার্ড ব্যবহার করে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ অনলাইন জুয়ার কয়েক কোটি টাকার লেনদেন পরিচালনা করে আসছিল। এই অবৈধ আর্থিক অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা ভুয়া পরিচয়পত্র ও বিভিন্ন কৌশলে এই বিপুল পরিমাণ এমএফএস অ্যাকাউন্ট সচল করেছিল, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জুয়ার টাকা আদান-প্রদান করা যায়। এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং অর্থ পাচারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিবির অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মন্তব্য