খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই এপ্রিল ২০২৫, ৬:৪৭ পিএম

ইথিওপিয়ায় কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হয়ে শুধু শারীরিক নয়, সামাজিকভাবেও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় অনেককে। ৪৬ বছর বয়সী কৃষক তিলাহুন ওয়ালে এই রোগে ডান পা হারানোর পাশাপাশি হারিয়েছেন নিজের পরিবারকেও। তিলাহুন বলেন, ‘আমার পরিবার আমাকে পরিত্যাগ করেছে। কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই।’
চিকিৎসা ও বাস্তবতা:
প্রায় ১৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়া ১৯৯৯ সালে কুষ্ঠরোগ নির্মূল ঘোষণা করলেও, এখনও প্রতি বছর গড়ে ২,৫০০ নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, এটি এখনো বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে বিদ্যমান।
সমাজে কুষ্ঠরোগ নিয়ে ভুল ধারণা:
ধর্মপ্রাণ এই দেশে অনেকেই কুষ্ঠরোগকে ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ মনে করেন। ফলে আক্রান্তরা অবহেলা ও বিদ্বেষের শিকার হন। ৩৫ বছর বয়সী হাইলে কাইরোস জানান, ‘এখনও মানুষ আমাদের এড়িয়ে চলে। এই রোগ নিয়ে মানুষের জানাশোনা খুব কম।’
চিকিৎসা কেন্দ্র ও সহায়তা কার্যক্রম:
রাজধানী আডিস আবাবায় অবস্থিত আলার্ট হাসপাতাল কুষ্ঠরোগীদের চিকিৎসা দেয়। ১৯৩৪ সালে এটি একটি উপনিবেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন তা আধুনিক হাসপাতাল।
আন্তর্জাতিক কুষ্ঠ মিশন এনজিও কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক সভা এবং ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। ৭০ বছর বয়সী আতালে মেকুরিয়া জানান, ‘এখন আর আগের মতো অবজ্ঞা করা হয় না। কাজের সুযোগও কিছুটা বেড়েছে।’
আর্থিক সংকট ও চিকিৎসার ঝুঁকি:
ডব্লিউএইচও-এর বাজেট কমার ফলে ওষুধ ও সেবাদান কার্যক্রম হুমকির মুখে। আলার্ট হাসপাতালের পরিচালক শিমেলিস গেজাহেগন বলেন, ‘সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। তবে কিছু সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।’
উপসংহার:
কুষ্ঠরোগ পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য হলেও সমাজে ভ্রান্ত ধারণা ও চিকিৎসা-সুবিধার ঘাটতির কারণে ইথিওপিয়ায় আক্রান্তরা এখনও কঠিন জীবনযাপন করছেন।
মন্তব্য