খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জুলাই ২০২৩, ৪:৩ পিএম
পাকিস্তান পাচ্ছে ৩০০ কোটি ডলার, আইএমএফের চূড়ান্ত অনুমোদন। বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে পাকিস্তান। এমনকি খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর এই দেশটি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল বিপুল অংকের ঋণ সহায়তা।অবশেষে দেশটিকে জরুরি (বেইলআউট) ঋণ প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বোর্ড। তবে একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে এই অর্থ পাবে পাকিস্তান। দেশটি এখন প্রায় ১২০ কোটি ডলার হাতে পাবে। বাকিটা আগামী নয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট এতোটাই প্রকট আকার নিয়েছিল যে, এক মাসের আমদানির জন্যও প্রয়োজনীয় বিদেশি মুদ্রার মজুদ দেশটির হাতে ছিল না। তবে চলতি সপ্তাহে দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব থেকে ২০০ কোটি ডলার পেয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টায় এই বেলআউট প্যাকেজটি একটি বড় পদক্ষেপ।তিনি বলেছেন, ‘এই প্যাকেজ অতিজরুরি থেকে মধ্যমেয়াদী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে এটি পরবর্তী সরকারকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতেও পথ নির্ধারণের জন্য আর্থিক সুরক্ষা দেবে।’
চুক্তিতে পাকিস্তানকে জ্বালানি পণ্যের ওপর ভর্তুকি প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ। কিন্তু ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই শর্ত মানতে রাজি না হওয়ায় ঋণের কিস্তি স্থগিত করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
তবে ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ইমরান খানের সরকার বিদায় নেওয়ার পর পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হন শেহবাজ শরিফ। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি আইএমএফের সেই চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ফের চেষ্টা শুরু করেন; কিন্তু এবার আইএমএফ সেই চুক্তিতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেয়।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইএমএফের এই ঋণ ঝুলে থাকায় অন্যান্য বিদেশি সংস্থা থেকেও ঋণ বা সহায়তা আসা কমে যায়। এর মধ্যে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলারের মজুত কমতে থাকায় দিন দিন অর্থনৈতিক সংকট প্রকট হওয়া শুরু করে পাকিস্তানে।তবে সংকট ও অনিশ্চয়তা পাশ কাটিয়ে আইএমএফের ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি (বেইলআউট) ঋণের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় পাকিস্তান এখন কিছুটা নিশ্চিন্ত হতেই পারে।
মন্তব্য