থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাতে একতরফা যুদ্ধবিরতির দাবি ব্যাংককের

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ড সরকার কম্বোডিয়ার কাছ থেকে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। ব্যাংককে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারাতি নালিতা আন্দামো স্পষ্টভাবে বলেন, থাই ভূখণ্ডে সামরিক আগ্রাসনের জন্য কম্বোডিয়াই দায়ী এবং তাই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার দায়িত্বও তাদেরই নিতে হবে।

থাই সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় চলমান সহিংসতা কেবল সামরিক নয়, মানবিক সংকটও তৈরি করেছে। সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। থাইল্যান্ড দাবি করছে, কম্বোডিয়ার সামরিক তৎপরতার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতি ছাড়া উত্তেজনা প্রশমনের আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্থলমাইন সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কম্বোডিয়ার আন্তরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে থাইল্যান্ডের এই দাবির বিষয়ে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে প্রায় ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা বহু বছর ধরেই বিরোধপূর্ণ। এই সীমান্ত বিরোধ থেকেই গত ৭ ডিসেম্বর নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উভয় দেশের সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্রায় আট লাখ মানুষ নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সীমান্তবর্তী সিসাকেত প্রদেশ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনো সেখানে গোলাবর্ষণ থামেনি। থাই গোলন্দাজ বাহিনীর কামান এবং কম্বোডিয়ার গ্র্যাড রকেটের বিস্ফোরণের শব্দ পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তুলছে। এতে বোঝা যায়, সংঘাত কতটা তীব্র রূপ ধারণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একতরফা যুদ্ধবিরতির দাবি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কারণ, উভয় দেশই নিজেদের আত্মরক্ষার যুক্তি দেখিয়ে সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কঠিন হতে পারে।