খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৫:১৯ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চাপা পড়ে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বেজুড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজনের মধ্যে একজন অটোরিকশার চালক এবং অন্যজন একটি ট্রাকের সহকারী ছিলেন।
নিহতরা হলেন পশ্চিম মাধবপুরের বাসিন্দা আবুল খায়ের (৪৫) এবং রতনপুর গ্রামের রিপন মিয়া (২৭)। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা আড়াইটার দিকে বেজুড়া এলাকায় ঢাকামুখী একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বালুবাহী ট্রাকটির নম্বর সিলেট ঢ-৪১-০০৭৪ এবং তেলবাহী ট্রাকটির নম্বর ময়মনসিংহ চ-১১-০৮০০।
দুই ট্রাকের সংঘর্ষের সময় পাশ দিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাচ্ছিল। সংঘর্ষের ধাক্কায় বালুবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি ট্রাকটির নিচে আটকে যায়। দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালক আবুল খায়ের এবং বালুবাহী ট্রাকের হেলপার রিপন মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মন্তোষ মল্লিকের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উদ্ধারকর্মীরা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের কাছ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকাজের সময় মহাসড়কে উপস্থিত লোকজনও সেখানে ভিড় করেন।
পরে দুর্ঘটনায় জড়িত তিনটি যানবাহন শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চললেও বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। প্রতিদিন এ পথে পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও ছোট যানবাহন চলাচল করে। ফলে মহাসড়কে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান চলাচলের সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। মাধবপুরের এই দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে দুটি ভারী যান ও একটি অটোরিকশা জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনায় দুই পরিবারের জন্য নেমে এসেছে শোক। একই সঙ্গে মহাসড়কে ভারী যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং চালকদের সতর্কতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
মন্তব্য