খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৫:২৭ পিএম

দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৭২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১৯ হাজার ৩৪৫ জন।
রোববার (৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে। সেখানে নতুন রোগীর সংখ্যা ১৪০ জন। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও পরিস্থিতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৮ জন, বরিশাল বিভাগে ৮৪ জন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগে নতুন রোগী ৫৭ জন। ময়মনসিংহে ২৭ জন, রংপুরে পাঁচজন এবং সিলেটে চারজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে, ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখন আর শুধু রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়। খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন বাড়ছে।
চলতি বছরে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে ১৭ হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও অব্যাহত থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এবং চিকিৎসাব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে খুলনা বিভাগ সবার ওপরে। এরপর রয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম এবং বরিশাল। অন্যদিকে রংপুর ও সিলেটে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এসব অঞ্চলেও সংক্রমণ পুরোপুরি অনুপস্থিত নয়।
| সূচক | সর্বশেষ তথ্য |
|---|---|
| চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত | ১৯,৩৪৫ জন |
| চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু | ৬১ জন |
| হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন | ১৭,০০০ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি | ৬৭২ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ২ জন |
| আক্রান্ত পুরুষের হার | ৬১.৫ শতাংশ |
| আক্রান্ত নারীর হার | ৩৮.৫ শতাংশ |
| খুলনা বিভাগে নতুন ভর্তি | ১৪০ জন |
| ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন ভর্তি | ১১০ জন |
| ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন ভর্তি | ৯১ জন |
| চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন ভর্তি | ৮৮ জন |
| বরিশাল বিভাগে নতুন ভর্তি | ৮৪ জন |
| ঢাকা বিভাগে নতুন ভর্তি | ৬৬ জন |
| রাজশাহী বিভাগে নতুন ভর্তি | ৫৭ জন |
| ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন ভর্তি | ২৭ জন |
| রংপুর বিভাগে নতুন ভর্তি | ৫ জন |
| সিলেট বিভাগে নতুন ভর্তি | ৪ জন |
ডেঙ্গুর বিস্তারের সঙ্গে এডিস মশার প্রজনন সরাসরি সম্পর্কিত। সাধারণত জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এ মশা ডিম পাড়ে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশের যেসব স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়।
এ কারণে শুধু মশার ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপগুলোর একটি।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলেও সতর্ক থাকা জরুরি। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ—এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে কার্যকর করতে পারলেই সংক্রমণ ও প্রাণহানি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মন্তব্য