রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুল করিম (৩৬) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুঠিয়ার বেলপুকুর ইউনিয়নের ভড়ুয়াপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল করিম ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। ময়না তদন্তের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বেলপুকুর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এই ঘটনায় থানায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার রফিক, করিম ও রাব্বীর পক্ষের সঙ্গে একই এলাকার জিল্লুর ও শাহাবুরের পক্ষের মধ্যে একটি জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকেলে সেই বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে চরম উত্তেজনায় রূপ নিলে দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা এবং ধারালো দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
উভয় পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে আব্দুল করিমসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। হামলা ও মারধরের ঘটনায় রক্তাক্ত জখম হওয়া করিমকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আঘাতের কারণে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সন্ধ্যার পর নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই সংঘর্ষে আহত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটা এই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় যাতে আর কোনো নতুন করে উত্তেজনা বা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মন্তব্য