চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় আলোচিত অপরাধী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা চলাকালে এই রিমান্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপরাধ ইতিহাসের কারণে চট্টগ্রামজুড়ে আলোচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে কঠোরভাবে এগিয়ে নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিমের আদালতে এই রিমান্ড মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক আসামির বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করার এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ডেভিড ইমনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি শুনে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন থানায় জোড়া খুনসহ অন্তত ১৮টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে থাকা এই সন্ত্রাসী বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাটহাজারীর এই চাঁদাবাজির মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সামনাসামনি জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে পুলিশ।
এর আগে গত ২ আগস্ট ফটিকছড়ি থানার একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এবং অপর একটি অস্ত্র মামলায় ডেভিড ইমনকে পাঁচ দিন করে মোট দশ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। ধারাবাহিক এসব মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগোতে থাকায় একের পর এক রিমান্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে।
গত ২৯ জুলাই ভোরের দিকে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি যাত্রীবাহী গাড়ি থামিয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময় ডেভিড ইমনকে তাঁর তিন সহযোগিতাসহ আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পরদিন ৩০ জুলাই তাঁকে মোট তিনটি পৃথক মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এখন হাটহাজারী থানার চাঁদাবাজির নতুন এই মামলায় রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাঁর অপরাধচক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য