জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম

জয়ের মানসিকতা নিয়েই সামনে এগোতে চায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল। শুধু একটি প্রতিযোগিতায় ভালো ফল নয়, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক আসরগুলোকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিও চলছে দলের। রোববার দুপুর ১২টায় যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে আবাসিক ক্যাম্পের অনুশীলন শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কথা জানান কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স এবং নতুন মুখ অ্যাডাম আব্বাস।
দলের কোচ জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ায় ফুটবলারদের সক্ষমতা যাচাই করার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। কোন খেলোয়াড় কোন পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকর, চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেমন এবং শারীরিকভাবে কে কতটা প্রস্তুত—এসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
এই প্রস্তুতি শুধু বর্তমান প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নয়। অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের সামনে থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর কথা মাথায় রেখেই খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করা হচ্ছে। বয়সভিত্তিক দলের জন্য এমন পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার পথ তৈরি হয়।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চারটির বেশি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে। এসব ম্যাচে ফুটবলাররা প্রতিপক্ষের ভিন্ন ধরনের কৌশল মোকাবিলা করার পাশাপাশি ম্যাচের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন। অনুশীলনের বাইরে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
কোচের পরিকল্পনায় শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছে। মাঠের অবস্থা কিংবা খেলার পরিবেশ সব সময় নিজেদের অনুকূলে থাকবে না। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে খেলায় ভারসাম্য ধরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। স্ট্যামিনা বাড়ানো, দীর্ঘ সময় একই গতিতে খেলার সক্ষমতা তৈরি এবং ম্যাচের শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখাও প্রস্তুতির অন্যতম অংশ।
জেরার্ড এমলিন জোন্সের লক্ষ্য পরিষ্কার—খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করা এবং দেশের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা। তাঁর মতে, শুধু ভালো ফুটবল খেলা নয়, ফল পাওয়ার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় মানসিকতাও।
দলে নতুন যোগ দেওয়া অ্যাডাম আব্বাসকে নিয়েও আশাবাদী কোচ। তাঁর ভাষায়, অ্যাডাম পেশাদার, বিনয়ী এবং শেখার ব্যাপারে আগ্রহী একজন ফুটবলার। তাকে ধীরে ধীরে আরও দক্ষ খেলোয়াড় ও কার্যকর গোলদাতা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যাডামও। তিনি জানান, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। জাতীয় দলের খেলোয়াড়, সহকারী কোচিং স্টাফ এবং কারিগরি দলের পরিশ্রমও তাঁর নজর কেড়েছে।
বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে হামজা চৌধুরী ও ইয়াসিন আলফি রেজার মতো খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসাও অ্যাডামকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁদের পথচলা দেখে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন তিনি।
আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপসহ বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো করাই এখন অ্যাডামের অন্যতম লক্ষ্য। দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সবাই যদি একই লক্ষ্য নিয়ে পরিশ্রম করে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে পারে, তাহলে জাতীয় দলও ভবিষ্যতে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাডাম আব্বাস ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় এসেছেন। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের প্রধান পজিশন রাইট উইঙ্গার। তবে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী সেন্টার ফরোয়ার্ড বা নম্বর ৯ হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি।
অ্যাডামের ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বার্নলির যুব দলে খেলার অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা এবার বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলের কাজে লাগাতে চান তিনি।
সব মিলিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ দলের বর্তমান প্রস্তুতিতে শুধু তাৎক্ষণিক ফল নয়, ভবিষ্যতের জাতীয় দল গঠনের ভাবনাও রয়েছে। মাঠের অনুশীলন, প্রীতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তার সমন্বয়ে দলটি নিজেদের আরও পরিণত করে তুলতে চাইছে। সামনে বড় আন্তর্জাতিক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে জয়কেই লক্ষ্য বানিয়েছে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা।
মন্তব্য