খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৩:১৩ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তাঁর সহপাঠীরা। রোববার সকাল থেকে মাদ্রাসার প্রধান ফটক ও গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁদের অবরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে দূরপাল্লার বাস, স্থানীয় গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহন। এতে যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব আশপাশের সড়কেও পড়ে এবং বিভিন্ন পথে যানবাহনের চাপ বাড়ে।
নিহত ইয়াসিন আলীর বয়স ১৭ বছর। সে তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাঁর বাবার নাম রিপন মিয়া। তাঁদের বাড়ি পাবনার সুজানগর থানার নেয়াপাড়া এলাকায়। পরিবারের সঙ্গে ইয়াসিন টঙ্গীর গাজীপুরা কাজীপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হচ্ছিল ইয়াসিন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর সে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াসিনকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে টঙ্গী পূর্ব থানায় নিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার সকালে ইয়াসিনের সহপাঠীরা মাদ্রাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা ইয়াসিনের মৃত্যুর জন্য দায়ী চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ড ও তামীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সামনের অংশটি অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা হলেও মহাসড়ক পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করায় পথচারীদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা গাজীপুরা এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ইয়াসিনের মৃত্যুর পর সাময়িক কোনো ব্যবস্থা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো শিক্ষার্থী কিংবা পথচারী একই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার না হন, সে জন্য গাজীপুরা এলাকায় স্থায়ী সড়ক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাভার্ড ভ্যানের চালককে আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
ইয়াসিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় পথচারী নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দাবি, দুর্ঘটনার পর কেবল তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মন্তব্য