খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম

মাদারীপুরের রাজৈরে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে তাঁর কথিত পরকীয়া প্রেমিককে পরকীয়া প্রেমের জেরে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মাথায় কাপড়ের ইস্ত্রি দিয়ে আঘাত করার পর মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। গত ২৩ জুলাই বুধবার রাতে উপজেলার ফুলতলা কাশিমপুর নয়াকান্দা এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মারুফ মাতুব্বর (২৬)। তিনি পাশ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের হায়দার মাতুব্বরের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ লিজা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে আটক করেছে। আটক লিজা নয়াকান্দা গ্রামের মৃত কুটি মিয়া মাতুব্বরের ছেলে এবং কুয়েতপ্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের স্ত্রী।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মারুফ ও লিজার মধ্যে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। চার বছর আগে কুয়েতপ্রবাসী কামরুল মাতুব্বরের সঙ্গে লিজার বিয়ে হয় এবং বিয়ের কিছুদিন পরই কামরুল কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে কুয়েতে ফিরে যান। অন্যদিকে, ইউরোপ পাড়ি জমানোর উদ্দেশ্যে ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়া গিয়েছিলেন মারুফ। লিবিয়ায় কিছুদিন অবস্থান করার পর প্রায় এক মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকেই লিজা ও মারুফের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হয় এবং পুরোনো প্রেমের সম্পর্ক আবার তীব্র হয়ে ওঠে।
অভিযোগ উঠেছে, বুধবার রাতে লিজা নিজে উদ্যোগী হয়ে মারুফকে তাঁর স্বামীর বাড়িতে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে তাঁদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথাকাটাকাটি শুরু হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে লিজা ঘরে থাকা কাপড়ের ইস্ত্রি দিয়ে মারুফের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মারুফ। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে লিজা নিহতের গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের নিচ থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লিজা আক্তারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের বাবা হায়দার মাতুব্বর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর ছেলেকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহের মাথার অংশসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে গভীর তদন্ত চলছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য