খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ওমানপ্রবাসী এক যুবকের বিশেষ অঙ্গ কেটে পালিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তাঁর চাচির বিরুদ্ধে। গত ২২ জুলাই বুধবার গভীর রাতে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের মার্যাদপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম জুয়েল (২৪)। তিনি চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের মার্যাদপাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে। জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে ওমানে ছিলেন এবং দীর্ঘ ৮ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে মাত্র এক মাস আগে দেশে ফিরেছেন।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জুয়েলের আপন চাচা মনির হোসেন প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে বিধবা চাচির সঙ্গে জুয়েলের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জুয়েল তাঁর চাচিকে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।
তবে ঘটনার রাতে চাচি জানতে পারেন যে পরিবারের পক্ষ থেকে জুয়েলের অন্যত্র বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। এই খবর পাওয়ার পরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে চাচি কৌশল অবলম্বন করেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিনি জুয়েলকে নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে যান এবং একপর্যায়ে ধারালো কাঁচি দিয়ে তাঁর গোপনাঙ্গ কেটে দেন।
জুয়েলের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল অবশ্য পরকীয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তিনি ঘরের বাইরে বের হয়েছিলেন। এ সময় চাচি তাঁকে জোরপূর্বক নিজের ঘরে টেনে নিয়ে দরজা আটকে দেন এবং তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি তাতে সম্মতি না দিলে তাঁকে পানি পান করতে দেওয়া হয়। পানি পান করার পরই তিনি কিছুটা অচেতন বা অসচেতন হয়ে পড়েন এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাচি কাঁচি দিয়ে তাঁর বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত চাচি বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের এক সদস্য থানায় এসে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য