খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:১ পিএম

দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলার যে সুবর্ণ সুযোগ লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে এসেছে, সেই ঐতিহাসিক সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন পেসার ইবাদত হোসেন। আগস্টে প্যাট কামিন্স ও স্মিথদের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশ দল মাঠে নামলেও সেখানে দেখা যাবে না এই স্পিডস্টারকে।
মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণেই দল থেকে বিরতি নেওয়ার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন ইবাদত। অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ চলাকালীনই প্রথমবারের মতো বাবা হতে যাচ্ছেন তিনি। সন্তান জন্মদানের শুভক্ষণে স্ত্রীর পাশে থাকা ও পরিবারকে সময় দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক কর্মকর্তা আমাদের প্রতিনিধি -কে নিশ্চিত করেছেন যে, ইবাদত ইতিমধ্যে বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে তাঁর দলে না থাকার বিষয়টি এখন প্রায় নিশ্চিত।
২০০৩ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল আবার ক্যাঙ্গারুর দেশে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। এই মেগা সিরিজের ঠিক আগমুহূর্তে ইবাদতের ছুটি চাওয়া দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ইবাদতের অনুপস্থিতির পাশাপাশি বিসিবিকে চিন্তায় রাখছে আরেক তরুণ গতিদানব নাহিদ রানার ইনজুরি। সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সফরে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করার সময় পেশিতে হঠাৎ টান পড়ায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নাহিদ। ইনজুরির গুরুত্ব বিবেচনায় সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও তিনি একাদশে ছিলেন না।
দেশে ফেরার পর গত বুধবার (২২ জুলাই) নাহিদের চোটের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে স্ক্যান করানো হয়েছে। বিসিবির চিকিৎসা বিভাগ থেকে জানা গেছে, স্ক্যান রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই তাঁর রিহ্যাবপ্রক্রিয়া শুরু হবে। Daily Sun-কে বিসিবির এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের পেশির ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই চিকিৎসকদের আশা, প্রথম টেস্টে না থাকলেও সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অন্তত নাহিদকে দলে পাওয়া যাবে।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রথম টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে মুখোমুখি হবে দুই পরাশক্তি। পেস আক্রমণের প্রধান দুই অস্ত্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া এমন অনিশ্চয়তায় সফর শুরুর আগে টিম ম্যানেজমেন্টের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
মন্তব্য