জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩ পিএম

সারা দেশে সংক্রামক ব্যাধি হাম ও এর উপসর্গের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৫ জনে। একই সঙ্গে গত এক দিনে দেশজুড়ে আরও ১ হাজার ১৪ জন শিশুর শরীরে নতুন করে রোগটির লক্ষণ ও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে দেশের এই সামগ্রিক হাম পরিস্থিতির হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজন সিলেট বিভাগের এবং অন্যজন রংপুর বিভাগের। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময়ে সারা দেশে মারা যাওয়া ৮০৫ শিশুর মধ্যে সরাসরি হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯৫ জন। বাকি ৭১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের মতো নানা জটিল উপসর্গ নিয়ে।
রোগটি ছড়ানোর গতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত এক দিনে নতুন করে ১৬৬ শিশুর দেহে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে একই সময়ে আরও ৮৪৮ শিশু হামের নানা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ হাজার ৭ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩ হাজার ৮৬৩ জন শিশু হাম ও এর আনুষঙ্গিক উপসর্গ নিয়ে দেশের নানা হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, উন্নত চিকিৎসাসেবা শেষে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮৮ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে ঘরে ফিরেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বরের পাশাপাশি শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উচিত। এই সাধারণ সচেতনতাই শিশুদের প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।
মন্তব্য