খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৪:২৪ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের জমজমাট আসর শেষে ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের দিকে। টুর্নামেন্টজুড়ে লিওনেল মেসি ও স্প্যানিশ তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালের মাঠের পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে তাঁদের কাউকেই ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ দাবিদার মনে করছেন না পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার লুইস ফিগো। তাঁর দৃষ্টিতে, ক্লাব ফুটবলে পুরো মৌসুমের ধারাবাহিকতা এবং স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে অনন্য অবদানের কারণে এই মুহূর্তে পুরস্কারটি জেতার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী মিডফিল্ডার রদ্রি।
সম্প্রতি দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২০০১ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফিগো তাঁর পছন্দের কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রণ, খেলা পরিচালনা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অলৌকিক ক্ষমতা তাঁকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। Goal ও Marca-র মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া মাধ্যমে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। The Daily Star-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ তারকাকে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিগো।
কথোপকথনে রদ্রিকে রিয়াল মাদ্রিদে অন্তর্ভুক্ত করার গুঞ্জন নিয়েও নিজের মতামত জানান ফিগো। তিনি মন্তব্য করেন, রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বমানের ক্লাব সবসময়ই দেশ-বিদেশের সেরা খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে চায়, যা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রদ্রির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকায় এই মুহূর্তে তাঁকে মাদ্রিদে আনা বেশ জটিল ও কঠিন হবে।
ফিগোর দেওয়া বর্ষসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফিগোর মতে, বিশ্বকাপে ফ্রান্স অধিনায়কের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স এবং দলের আক্রমণে একক প্রভাব তাঁকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে বেশ সামনের সারিতেই টিকিয়ে রেখেছে।
তালিকার বাকি দুই নাম নিয়ে ফুটবলপাড়ায় খানিকটা বিস্ময় তৈরি হলেও ফিগো তাঁর যুক্তিতে অনড়। তিনি সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান দিয়েছেন পিএসজির পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিতিনহা এবং উঠতি ফরাসি উইঙ্গার দেজিরে দুয়েকে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত ট্রফি না পেলেও ক্লাব ফুটবলে পুরো মৌসুমজুড়ে তাঁদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং ধারাবাহিকতা ফিগোর মন জয় করে নিয়েছে। সাবেক এই উইঙ্গারের স্পষ্ট মতামত, ব্যালন ডি’অরের মতো বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং পুরো মৌসুমজুড়ে খেলোয়াড়ের সামগ্রিক অবদানকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা দলকে টেনে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার পেছনে লিওনেল মেসির জাদুকরী নেতৃত্ব কিংবা স্পেনের শিরোপা জয়ের পথে ইয়ামালের অসামান্য নৈপুণ্যকে ফিগো সম্মান জানিয়েছেন। তবে সামগ্রিক মৌসুমের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে মেসি কিংবা ইয়ামালকে না রেখে রদ্রি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিতিনহা এবং দেজিরে দুয়েকেই ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ট্রফি জয়ের আসল দাবিদার মনে করছেন পর্তুগালের এই সাবেক আইকন।
মন্তব্য