খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ৫:৬ এএম

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই দুই গোলের মাধ্যমে তিনি শুধু চলতি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থানেই উঠে যাননি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শিরোপার লড়াই না হলেও এমবাপ্পের জন্য এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে গোল করা ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেলেই শট নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছেন।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পাননি রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। ইংল্যান্ড গোল করার পরও তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়। বিরতির পরই বদলে যায় দৃশ্যপট।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। সেই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি সবার ওপরে উঠে আসেন। এরপর ম্যাচের এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই আরেকটি গোল করে নিজের আধিপত্য আরও স্পষ্ট করেন ফরাসি এই তারকা। জোড়া গোলের পর চলতি আসরে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০।
এই দুই গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি লিওনেল মেসির চেয়ে দুই গোল এগিয়ে গেলেন। তবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে ব্যবধান কমানোর। রোববার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামবেন মেসি, যেখানে ভালো পারফরম্যান্স করলে তিনি আবারও সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে ফিরতে পারেন।
এমবাপ্পের এই কীর্তি আরও বড় একটি রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে। তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ২২, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসির গোলসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই এই উচ্চতায় পৌঁছানো ফরাসি ফরোয়ার্ডের সামনে ভবিষ্যতে রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে এমবাপ্পেকে ইতোমধ্যেই আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা টুর্নামেন্ট খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৬ আসরেও তিনি ফ্রান্সের আক্রমণের প্রধান ভরসা ছিলেন। তার গতি, নিখুঁত ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচে গোল করার সক্ষমতা আবারও প্রমাণ করেছে কেন তিনি বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়ংকর ফরোয়ার্ডদের একজন।
বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে এসে এমবাপ্পের এই রেকর্ড নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি থাকবে ফাইনালে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সের দিকে। তিনি গোলের ব্যবধান কমাতে পারেন কি না, নাকি এমবাপ্পেই গোল্ডেন বুট এবং নতুন বিশ্বরেকর্ড—দুটিই নিজের করে নেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
মন্তব্য