জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই জুলাই ২০২৬, ১২:৮ পিএম

বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে—স্পেন নাকি আর্জেন্টিনা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যখন পুরো বিশ্ব উন্মুখ হয়ে আছে, ঠিক তখনই ফুটবল মাঠের উত্তেজনা এসে আছড়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে। বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচের ঠিক আগের দিন লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর্জেন্টিনার বর্তমান ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সঙ্গে ব্যক্তিগত গভীর বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই এই সমর্থনের কথা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেন, শুধু তিনি নিজে নন, ইসরায়েলের সিংহভাগ নাগরিকই ফাইনালে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক বিজয় দেখতে চান।
আজ নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির ঐতিহ্যবাহী মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের দিন জেরুজালেমে এক বিশেষ কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন ইসরায়েলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়াহনিশ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মূলত এই বৈঠকেই দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে ফুটবল বিশ্বকাপ।
বৈঠক চলাকালীন রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়াহনিশ আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা শিবিরের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একটি অফিশিয়াল জার্সি উপহার দেন। জার্সিটি হাতে নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাঁর আনন্দ প্রকাশ করেন। এরপর রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিশেষ অডিও বার্তা নেতানিয়াহুকে শুনিয়ে চমকে দেন।
উক্ত অডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট মিলেই তাঁর স্বভাবসুলভ আন্তরিকতায় বলেন, “আপনি আমার একজন প্রকৃত বন্ধু এবং আপনি সব সময় আমাদের রাষ্ট্রকে সমর্থন করে এসেছেন। আমি এটা জেনে অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের খাতিরে আপনি এই মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
“হাভিয়ের, তুমি আমাদের একজন অকৃত্রিম বন্ধু। আমরা সব সময় তোমার এবং আর্জেন্টিনার পাশে আছি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে আমরা আর্জেন্টিনাকে যেভাবে সমর্থন দিয়ে আসছি, আগামীকাল ফুটবল মাঠেও তার ব্যতিক্রম হবে না। তোমাদের জন্য শুভকামনা রইল।” — বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
প্রেসিডেন্ট মিলেইর বার্তার প্রত্যুত্তরে নেতানিয়াহু অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের ফুটবলীয় অবস্থান তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়টি মোটেও গোপন করতে চাই না যে, আমি আর্জেন্টিনার একজন একনিষ্ঠ সমর্থক। আমার বিশ্বাস, এই ম্যাচে ইসরায়েলের অধিকাংশ জনগণও আর্জেন্টিনার পক্ষেই গলা মেলাবেন। শুভকামনা! ভামোস আর্জেন্টিনা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই প্রকাশ্য হৃদ্যতা আসলে আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের মধ্যকার অভূতপূর্ব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেরই প্রতিচ্ছবি। কট্টর ডানপন্থী অর্থনীতিবিদ হাভিয়ের মিলেই আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই তেল আবিবের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও জোরালো সমর্থন বজায় রেখেছেন। এমনকি আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের মতো সংবেদনশীল কূটনৈতিক সিদ্ধান্তও নিয়েছেন মিলেই। ফলে এই ফুটবলীয় সমর্থন আসলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি বিশ্বকাপে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দল মাঠে নামবে টানা দ্বিতীয় এবং নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলার স্বপ্ন নিয়ে। কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার এই মিশন আর্জেন্টিনার জন্য যেমন আবেগের, তেমনই এক বিশাল মর্যাদার লড়াই।
অন্যদিকে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল স্পেনও মাঠে নামবে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পাওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর কেটে গেছে। স্প্যানিশদের লক্ষ্য এবার দ্বিতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফিটি নিজেদের শোকেসে ভরা। ইউরোপীয় পাসিং ফুটবল বনাম লাতিন আমেরিকান শৈল্পিক ফুটবলের এই ধ্রুপদী লড়াইকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল প্রেমীর চোখ এখন স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই কূটনৈতিক মাঠের এই সমর্থন আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের জন্য এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
মন্তব্য