খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ১:৫৬ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্ত্রী ও এক শিশু সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় তাদের আরেক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে এবং বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন এহেছানুল হকের স্ত্রী শহীদা নুর ওরফে সুফিয়া (৩০) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ শামীম। গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের বড় ছেলে মো. আফছার ওরফে বাপ্পী (১৪), যিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এহেছানুল হক ধারালো দা দিয়ে প্রথমে স্ত্রীকে আঘাত করেন। এরপর দুই সন্তানকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শহীদা নুর ও শিশু শামীমের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যান বড় ছেলে আফছার।
কুতুপালং ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ হুসাইন জানান, গভীর রাতে চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় আফছারকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় প্রথমে তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যান। তার অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। ক্যাম্পের বিভিন্ন প্রবেশ ও বহির্গমন পথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি হিসেবে পরিচিত। সেখানে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাস, সীমিত অবকাঠামো, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক নানা সংকট তৈরি হয়। এসব পরিস্থিতিতে মাঝেমধ্যে সহিংসতার ঘটনাও সামনে আসে। তবে প্রতিটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ক্যাম্প প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত চালিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর কুতুপালং ক্যাম্পজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর আহত কিশোর আফছারের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ সামনে এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য