জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

হাতকড়াসহ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে আসামির চাঞ্চল্যকর পালানো

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় পুলিশ হেফাজত থেকে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে আটক অবস্থায় থাকা ফরিদ হোসেন (২৮) নামের ওই আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে। এ ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক ফরিদ হোসেন কোটচাঁদপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং হোসেন আলীর ছেলে। তিনি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার ভোমরাডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় স্থানীয় বাজারসংলগ্ন একটি বিদ্যালয়ের পেছন থেকে ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, রাতের কোনো এক সময় তিনি হাতকড়া পরা অবস্থাতেই দায়িত্বে থাকা সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফাঁড়ি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কীভাবে একজন আটক ব্যক্তি হাতকড়াসহ নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে পালিয়ে গেলেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও এখন আলোচনায় এসেছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আসামির পালিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।

কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফরিদ হোসেন নামের একজন আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন বলে তারা জেনেছেন। তবে তিনি ঠিক কোন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত থেকে কোনো আসামির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত পালানোর পরিস্থিতি, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনা করা হয়। যদিও এ ঘটনায় এমন কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক ফরিদ হোসেনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সম্ভাব্য সব স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে, যাতে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা যায়।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর