খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৭:২ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের জন্য শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় না জানালেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নয়নে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তাকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় যুব দলের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় একটি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান মেন্টর হিসেবেও তাকে পাঠানোর পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।
মাহমুদুল্লাহ এখনো সক্রিয় ক্রিকেটার। চলতি মৌসুমেও তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছেন এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও খেলছেন। এ কারণে বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় দল বা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের কোচিং স্টাফ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই আপাতত তিনি ‘মেন্টর’ পরিচয়েই দায়িত্ব পালন করবেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাহমুদুল্লাহ বাংলাদেশের হয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান রেখেছেন। তার অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা, ম্যাচ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে বিসিবি। বোর্ডের লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা যেন তার কাছ থেকে মাঠের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতি, নেতৃত্বগুণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়।
সম্প্রতি ক্রিকেট অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, মাহমুদুল্লাহ বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলেও বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মেন্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সেই ভূমিকাতেই তিনি কাজ শুরু করবেন।
এ ছাড়া আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য একটি উন্নয়নমূলক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের সঙ্গে তার সফরের বিষয়টিও অনেকটাই নিশ্চিত। গত দুই বছর ধরে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল, একাডেমি এবং হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল অংশ নিয়ে আসছে। একই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান তাদের যুব দলকে ‘পাকিস্তান শাহিন’ নামে মাঠে নামায়। প্রতিযোগিতাটি তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিসিবি মনে করছে, এমন একটি পরিবেশে মাহমুদুল্লাহর উপস্থিতি তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝা, চাপ সামলানো এবং পেশাদার ক্রিকেটের সংস্কৃতি সম্পর্কে বাস্তব শিক্ষা নিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে ব্যাটিং, ম্যাচ সচেতনতা এবং নেতৃত্বের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে।
তবে বোর্ড সূত্রের মতে, মাহমুদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে জাতীয় দল বা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ভবিষ্যতে তিনি যদি ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে পূর্ণকালীন কোচিংয়ে আগ্রহী হন, তখন বিসিবি তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
এই মুহূর্তে তাই মাহমুদুল্লাহর নতুন পরিচয় কোচ নয়, মেন্টর। আর সেই ভূমিকাতেই দেশের উদীয়মান ক্রিকেটারদের পথচলায় নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অর্জনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল এই ক্রিকেটার।
মন্তব্য