খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৮:২৪ পিএম

পূর্ব সুন্দরবনের মৃগামারী খালে অভিযান চালিয়ে হরিণ শিকারের ফাঁদসহ চারজনকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় একটি নৌকা, প্রায় আড়াই মণ কাঁকড়া, হরিণ ধরার ফাঁদ এবং কাঁকড়া আহরণে ব্যবহৃত ৫০টি নিষিদ্ধ চারুসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে আটক ব্যক্তিদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোররাতে চাঁদপাই ফরেস্ট স্টেশন ও আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রের বনরক্ষীরা মৃগামারী খালে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় একটি নৌকায় থাকা চারজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। পরে নৌকাটি তল্লাশি করে বনরক্ষীরা হরিণ শিকারের জন্য ব্যবহৃত প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ মালা ফাঁদ উদ্ধার করেন।
তল্লাশিতে আরও পাওয়া যায় সাতটি ঝুড়িতে সংরক্ষিত প্রায় আড়াই মণ কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার ৫০টি নিষিদ্ধ চারু। বন বিভাগের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা একই সঙ্গে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী শিকার এবং বনজ সম্পদ আহরণের চেষ্টা করছিলেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চিলা গ্রামের ফরিদ হাওলাদার (৩০), আতাউর খান (২৮), মোজাম জোমাদ্দার (২৯) এবং রুহুল জোমাদ্দার (৩০)। বন বিভাগের দাবি, ফরিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে এর আগেও বন-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ আহরণে তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এই সময়ে বনাঞ্চলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের মাছ, কাঁকড়া বা অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযানে আটক ব্যক্তিরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগের নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হরিণসহ সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী শিকার কিংবা বনজ সম্পদ অবৈধভাবে আহরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, আটক চারজনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার দুপুরে তাদের বাগেরহাট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা নৌকা ও অন্যান্য আলামত বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।
মন্তব্য