খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৬:১৮ পিএম

ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, শরিয়াহভিত্তিক তদারকি এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায়।
শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) রাজধানীতে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত কর্মশালার বিষয় ছিল ‘ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহভিত্তিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বিআইবিএম পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহমেদ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএমের প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আমানতকারী ইসলামী ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে আগ্রহী। তাই জনগণের আস্থা অটুট রাখতে শরিয়াহ কাউন্সিলকে আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে জনগণের বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক বছরে বাংলা কিউআর সারা দেশে আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হবে, যা ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবদুল হাই সরকার বলেন, প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাঁর মতে, যৌক্তিক সংখ্যক ব্যাংক থাকলে ব্যবস্থাপনা, তদারকি এবং পরিচালনাগত দক্ষতা আরও উন্নত হবে।
ড. কবির আহমেদ বলেন, নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে শরিয়াহ পরিপালন ব্যবস্থার দায়িত্ব ও পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক তদারকি নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই এর টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী শরিয়াহ সুশাসনের বিকল্প নেই।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শরিয়াহ সুশাসন ও কার্যকর পরিপালন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন। শরিয়াহ নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করলে গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং শরিয়াহ তদারকি কাঠামোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে বিআইবিএম ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মো. আশরাফুল আলম জানান, ইসলামী ব্যাংক আইন প্রণয়নের খসড়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্যরা তিনটি কারিগরি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় ইসলামী ব্যাংকিং ও অর্থব্যবস্থায় ইসলামী আইনগত নীতিমালার প্রয়োগ, শরিয়াহ সুশাসন কাঠামো এবং বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমে এর প্রভাব, পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহভিত্তিক দায়িত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
শেষে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা ইসলামী ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, শরিয়াহ তদারকি এবং সামগ্রিক উন্নয়ন আরও জোরদার করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
কর্মশালায় ইসলামী ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং ব্যাংকিং খাতের পেশাজীবীরা অংশ নেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য