খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৩৩ জন শিশু হাম অথবা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন এই পরিসংখ্যান দেশের শিশুস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
শনিবার (৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হলেও পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ জন শিশু। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ এবং নিশ্চিত সংক্রমণের কারণে এই সময়ের মধ্যে মোট ৭৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১২ হাজার ৫২৬ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের সংখ্যা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া এ রোগের সাধারণ উপসর্গ। সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা না পেলে নিউমোনিয়া, অপুষ্টি, ডায়রিয়া কিংবা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকাদান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শের আওতায় আনা, অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের মধ্যে জ্বর, ফুসকুড়ি বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি, রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য