পাওনা টাকা নিয়ে সালিশে সংঘর্ষ, নিহত একজন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ ইউনিয়নের শংকরচন্দ্র গ্রামে পাওনা টাকা নিয়ে সালিশ বৈঠকের প্রস্তুতিকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আলিমদ্দীন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত ঝড়ু মণ্ডলের ছেলে। শনিবার (৯ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিপক্ষের বেধড়ক মারধরের কারণে আলিমদ্দীনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে শংকরচন্দ্র গ্রামের মৃত রসুল ফকিরের ছেলে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে আরিফ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা ফেরত না দিয়ে আরিফ এলাকা ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।

পরবর্তীতে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য জিয়াউর রহমান ও তার স্বজনরা পলাতক আরিফের ছেলেকে শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউল আলম সুজনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে পরবর্তী সালিশ বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করতে নির্দেশ দেন।

এই অবস্থায় সালিশের প্রস্তুতিকালে আরিফের বাবা লিয়াকত আলী, ছোট ভাই আল-আমিন এবং মা জেসমিন খাতুনের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের চাচা আলিমদ্দীনের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে আলিমদ্দীন গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি বুকে গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা লিয়াকত আলী ও তার স্ত্রী জেসমিন খাতুনকে আটক করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সরোজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক দুজনকে হেফাজতে নেয়।

ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
ঘটনার স্থানশংকরচন্দ্র গ্রাম, ডিঙ্গেদহ ইউনিয়ন, চুয়াডাঙ্গা সদর
ঘটনার সময়শনিবার, ৯ মে (সকাল)
নিহত ব্যক্তিআলিমদ্দীন (৫০)
ঘটনার কারণপাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ও সালিশের প্রস্তুতিকালে সংঘর্ষ
জড়িত পক্ষজিয়াউর রহমানের পক্ষ ও লিয়াকত আলীর পরিবার
আহত/নিহত অবস্থাআলিমদ্দীন গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাদুইজন আটক, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।