খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ এএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এক শিক্ষার্থীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার এই ঘটনাটি ঘটেছে ঐতিহ্যবাহী নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মহাদেব রায়, যিনি ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ফোনে আসা হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার হুবহু মিল পাওয়ায় এই ঘটনাটি প্রকাশ পায়।
গতকাল বুধবার সকালে পরীক্ষা চলাকালেই বিষয়টি প্রথম জানাজানি হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে ‘Mahadev Sir’ নামে সংরক্ষিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে পরীক্ষার আগেই কিছু বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেই বার্তার স্ক্রিনশটের সঙ্গে পরীক্ষার মূল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা গেছে, ইংরেজি প্রথম পত্রের ২ নম্বর প্রশ্নের পাঁচটি অংশের সবকটিই অবিকল মিলে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রশ্নপত্রটি একসঙ্গে না পাঠিয়ে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ধাপে ধাপে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে ওই শিক্ষার্থীর কাছে পাঠানো হতো।
বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের এই প্রশ্নপত্রটি নিজে প্রণয়ন করেছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক মহাদেব রায়। বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যিনি প্রশ্ন তৈরি করেন তিনি নিজেই তা প্রিন্ট করে একটি সিলগালা খামে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেন। এরপর পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সেই সিলগালা খাম সবার সামনে খোলা হয়। যেহেতু প্রশ্নপত্রটি মহাদেব রায়ের নিজের তৈরি এবং এটি অন্য কারও দেখার সুযোগ ছিল না, তাই পরীক্ষা শুরুর আগে এটি বাইরে যাওয়ার দায় সম্পূর্ণভাবে তাঁর ওপরই বর্তায় বলে মনে করছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক মহাদেব রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এমনকি ঘটনার পর থেকেই তাঁকে আর সেভাবে যোগাযোগ করতে দেখা যায়নি। তবে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দশম শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি ইতিমধ্যেই তাদের নজরে এসেছে এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার পেছনে মূল কারণ উদঘাটন করা হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসার পর দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষাঙ্গনে এমন অনিয়ম রুখতে প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
মন্তব্য