খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ১:৪০ এএম

গাইবান্ধার সাঘাটায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) দুপুর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে সাঘাটার কচুয়া ইউনিয়নের সতীতলা সাহেব বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত মুকুল দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে সাদা পোশাকের পুলিশের একটি দল সতীতলা সাহেব বাজারের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান নেয়। আত্মগোপনে থাকা মুকুল ওই এলাকার একটি হোটেলে খাবার খেতে আসলে ওত পেতে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কড়া নিরাপত্তায় দ্রুত সাঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের আকস্মিক অভিযানে গ্রেপ্তারের সময় মুকুল বেশ চমকে যান এবং পালানোর কোনো সুযোগ পাননি। সে সময় তার পরনে ছিল সাধারণ পোশাক এবং চেহারায় স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ ছিল। পুলিশ তাকে দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে তুলে থানার উদ্দেশে রওনা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মুকুল নিজ এলাকার আশপাশেই বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে থেকে তিনি হয়তো ভেবেছিলেন পুলিশের নজর এড়াতে পারবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হলো। তার এই গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।
গত ২১ জুন (রোববার) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে মুকুল, তার ভাই পলাশ ও যুবদল নেতা আশরাফ আখন্দসহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী গলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার বন্ধু সালাউদ্দিন ফুসফুসে গুরুতর জখম হন। ঘটনার পরপরই মুকুল ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রধান আসামি করা হয়। ঘটনার পরপরই বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে গাইবান্ধা জেলা যুবদল।
সাঘাটা থানা পুলিশ জানায়, সাইফুল্লাহ হত্যার ঘটনায় এ নিয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলো। এর আগে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। প্রধান আসামি ধরা পড়ায় মামলার তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মুকুলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং আসামিদের আত্মগোপনে থাকতে যারা সহায়তা করেছে, সেই সব পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য