খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ১:২৪ এএম

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁর দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লটের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো না নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে কোনো সংসদ সদস্য যদি আইনসম্মত উপায়ে এসব সুবিধা গ্রহণ করেন, তাকে কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। জামায়াত সেই নৈতিক অবস্থান কঠোরভাবে রক্ষা করে চলার চেষ্টা করছে বলেও তিনি জানান।
বুধবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদের কার্যক্রম এবং জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
সংসদ সদস্যদের সরকারি গাড়ি ও প্লট বরাদ্দের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে চলমান আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা নির্বাচনের সময় দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট ওয়াদা করেছিলাম। আমাদের দল থেকে কেউ নির্বাচিত হলে, তিনি সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী—যাই হোন না কেন, আমরা কর ফাঁকি দিয়ে বা শুল্কমুক্ত সুবিধায় কোনো গাড়ি কিনব না। একই সঙ্গে সরকারের কাছ থেকে কোনো স্থায়ী প্লটের সুবিধাও নেব না। তবে কিছু কিছু বন্ধু আছেন, যাঁরা এই ভালো উদ্যোগের পেছনেও নানা রকম নেতিবাচক বিতর্ক তৈরি করতে পছন্দ করেন।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে তা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সেখানে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না। অথচ অনেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রটাচ্ছেন যে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা সরকারি ফ্ল্যাটেও থাকবেন না।
সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আবাসন বা ফ্ল্যাটের সুবিধা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারি ফ্ল্যাটগুলো মূলত সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট বা ‘ডেজিগনেটেড’। এটি কোনো স্থায়ী সম্পত্তি নয়, যা সরকার কাউকে একেবারে দিয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল সংসদীয় দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে বলেন, “যত দিন জাতীয় সংসদ কার্যকর থাকবে, তত দিন সরকারি দল ও বিরোধী দল—সব পক্ষের সংসদ সদস্যরা এই আবাসন সুবিধা ব্যবহার করবেন। যখন সংসদের মেয়াদ শেষ বা সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তখন এখানে এক সেকেন্ডও থাকার কোনো নৈতিক বা বৈধ অধিকার কারও থাকবে না; সবাইকে এটি ছেড়ে দিতে হবে।” এই সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে অযথা জল ঘোলা করা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা অনভিপ্রেত ও অন্যায্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্তব্য