খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ১:১৪ এএম

হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে চরম হতাশার জন্ম দিয়েছে। মাঠের খেলায় স্বাগতিকদের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচটির এমন একতরফা ও হতাশাজনক পরিণতিকে জিম্বাবুয়ের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘এইচ-মেট্রো’ তাদের প্রধান শিরোনাম করেছে—’BANGLADEAD!’। এই একটি শব্দের মধ্য দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি বোঝাতে চেয়েছে যে, লাল-সবুজের ক্রিকেট যেন এই সংস্করণে পুরোপুরি মৃতপ্রায়।
সফরকারী দলের এমন লক্ষ্যহীন ক্রিকেটকে তুলে ধরতে এর চেয়ে যথোপযুক্ত ও তীক্ষ্ণ শিরোনাম আর হতে পারত না। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটিতে মাত্র তিন দিনেই ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে দীর্ঘ ২৫ বছর পর এমন বড় ব্যবধানে বা ইনিংস হারের তিক্ত স্বাদ পেল টাইগাররা।
মাঠের এই লজ্জাজনক পরাজয়ের পরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে বড় একটি দুঃসংবাদ এসেছে বাংলাদেশ শিবিরের জন্য। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ হালনাগাদে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এক ধাক্কায় তারা ঐতিহ্যবাহী দল পাকিস্তানের নিচে নেমে গেছে। অথচ মাত্র দেড় মাস আগেই ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ঐতিহাসিক ধবলধোলাই বা হোয়াইটওয়াশের গৌরব অর্জন করেছিল এই বাংলাদেশ দল।
আইসিসির নতুন সমীকরণ অনুযায়ী, টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান এখন অষ্টম। অন্যদিকে বাংলাদেশকে টপকে এক ধাপ এগিয়ে সাতে উঠে এসেছে পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৮, যেখানে পাকিস্তানের ঝুলিতে ছিল ৭৫ পয়েন্ট। তবে এই একটি ম্যাচের ভরাডুবিতে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট একবারে ৫ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৩-এ। ফলে মাঠের ক্রিকেটের বাজে ফলের প্রভাব এখন সরাসরি টেবিল ও রেটিংয়ের ওপরেও দৃশ্যমান।
অথচ শক্তির বিচারে হারারে টেস্টে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচ শুরুর প্রথম সেশন থেকেই চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেন সফরকারী ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়ের বোলারদের তোপের মুখে মাত্র ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের সুযোগ নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিকরা। নিজেদের প্রথম ইনিংসে তারা পাহাড়সম ৪১০ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে, যা বাংলাদেশের ওপর ২৭০ রানের বিশাল লিড ও মানসিক চাপ তৈরি করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রানের বোঝায় পিষ্ট হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ন্যূনতম কোনো লক্ষণ দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ—কোনো ব্যাটারই ক্রিজে টিকে থাকার মানসিকতা দেখাতে পারেননি। টপ অর্ডার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার পর্যন্ত সবাই যেন প্যাভিলিয়নে ফেরার তাড়াহুড়োয় ছিলেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস ও ৮৫ রানের এই বিশাল পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শান্ত ও মুশফিকদের। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে এই হার দলের আত্মবিশ্বাসকে বড় ধাক্কা দিল।
মন্তব্য