খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ১:৪৩ এএম

অনলাইনে সহজে এবং অল্প সময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি সুসংবদ্ধ প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ (দক্ষিণ)। ধর্মীয় অনুভূতি ও মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে বিশ্বস্ত সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’ এবং এর চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর নাম-ছবি ব্যবহার করে তারা এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. বাবলু ওরফে সূর্য (২৪), মো. শাহিন (২১), মো. তুষার মিয়া (২৫), মো. আতিকুর রহমান ওরফে নিরব রানা (২০), মো. লিখন ওরফে ইমন (২২) ও মো. শাকিল রানা (৩০)।
ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ (দক্ষিণ) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাড্ডা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে হস্তান্তর করা হলে এর রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দেখতে পান, প্রতারক চক্রটি দেশের বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠান ও চ্যারিটি অর্গানাইজেশনের আসল ওয়েবসাইটের অবিকল নকল পেজ তৈরি করত। এরই অংশ হিসেবে তারা মানুষের মনে গভীর আস্থা তৈরি করতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ও শায়খ আহমাদুল্লাহর নাম, ছবি ও পূর্বপরিচিতির অপব্যবহার করে। তারা ভুয়া ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ খুলে সাধারণ মানুষকে আকর্ষণীয় মুনাফায় বিনিয়োগের অফার দিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ছড়াতে শুরু করে।
অধিকাংশ মানুষ ধর্মীয় ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের লোগো এবং ছবি দেখে বিভ্রান্ত হতেন। বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে তারা সেখানে দেওয়া বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) যেমন—বিকাশ, রকেট কিংবা নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। টাকা জমা হওয়া মাত্রই প্রতারকেরা সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিত।
তদন্তকারী দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপরই দেশের তিন জেলায় পর্যায়ক্রমে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
প্রথম অভিযানটি চালানো হয় মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল আনুমানিক ১১টায় গাজীপুর জেলার আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার ‘কাবাব প্লাজা’য়। সেখান থেকে চক্রের মূল হোতা বাবলু ওরফে সূর্য এবং তার সহযোগী শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া এই দুইজনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ডিবির টিম ওই দিনই রাত সাড়ে ১১টায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা এলাকায় দ্বিতীয় দফা অভিযান চালায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তুষার মিয়া, আতিকুর রহমান ওরফে নিরব রানা এবং লিখন ওরফে ইমনকে।
সবশেষে, এই পাঁচ আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার (১ জুলাই) ভোর ৫টায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়া পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের অন্যতম কারিগর শাকিল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত বেশ কিছু মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং ভুয়া পেজ পরিচালনার প্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত আছে, তা জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
মন্তব্য