খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৪:২৯ পিএম

আধুনিক নগরজীবনের শব্দ, প্রযুক্তি এবং সৃজনশীল সংগীতচর্চাকে এক সুতোয় গাঁথার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করেছে ‘নতুন শব্দ: ইলেকট্রনিক মিউজিক কর্মশালা ও মঞ্চ পরিবেশনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী, সাউন্ড আর্টিস্ট এবং সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
শিল্পকলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ইলেকট্রনিক সংগীত তৈরির মৌলিক বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো হয়। এতে শব্দ নকশা, বিট নির্মাণ, সরাসরি পরিবেশনার জন্য প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং সংগীত তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের প্রাথমিক ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন শাদওয়ান চৌধুরী, নাজমুস সাকিব এবং হাসিব মাহমুদ। তারা অংশগ্রহণকারীদের ইলেকট্রনিক সংগীতের নানামাত্রিক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সংগীতচর্চার বাস্তব অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন। বিশেষ করে যারা নতুনভাবে এই ধারার সংগীত নিয়ে কাজ শুরু করতে চান, তাদের জন্য কর্মশালাটি ছিল শেখার একটি কার্যকর সুযোগ।
আয়োজকদের মতে, বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রনিক সংগীত এখন সমসাময়িক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় ধারা। বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্র, কম্পিউটারভিত্তিক সফটওয়্যার এবং সাউন্ড প্রসেসিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই সংগীত তরুণদের কাছে ক্রমেই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। বাংলাদেশেও স্বাধীন সংগীতচর্চার পাশাপাশি পরীক্ষাধর্মী সাউন্ড ডিজাইন, লাইভ পারফরম্যান্স এবং ডিজিটাল সংগীত প্রযোজনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলতেই এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে শিল্পকলা একাডেমি।
দিনের দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ইলেকট্রনিক সংগীতের সরাসরি মঞ্চ পরিবেশনা। এতে বাংলাদেশের সমসাময়িক ইলেকট্রনিক সংগীত অঙ্গনে সক্রিয় বিভিন্ন শিল্পী ও সাউন্ড আর্টিস্ট অংশ নেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সৃজনশীল শব্দ বিন্যাস এবং লাইভ সাউন্ড পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা দর্শকদের সামনে ইলেকট্রনিক সংগীতের বৈচিত্র্যময় রূপ তুলে ধরেন। ফলে উপস্থিত দর্শকরা শুধু পরিবেশনা উপভোগই করেননি, বরং এই ধারার সংগীতের নান্দনিকতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কেও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ বিভাগ ও প্রযোজনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের বিশ্বাস, প্রযুক্তিনির্ভর সংগীতচর্চাকে আরও বিস্তৃত করা, নতুন প্রতিভা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশের সমসাময়িক সংগীতভুবনে নতুন সৃজনশীল ধারা বিকাশে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য