খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচজনকে নিয়ে চলতি জুন মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন। বছরের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় জুনের এই শেষ দিকে এসে ডেঙ্গুর আক্রমণ ও মৃত্যুর গতি দুটোই বেশ দ্রুত বাড়ছে। সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আজ সকাল আটটা পর্যন্ত হিসাব করা পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার তথ্যে দেখা গেছে, মৃত পাঁচজন রোগীর ভৌগোলিক অবস্থানে ভিন্নতা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দুজন মারা গেছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যজন ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গুর এই বিস্তার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রোগীর এই সংখ্যা বৃদ্ধি হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে সর্বমোট ৫ হাজার ৯২৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১০০ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৫৫ জনে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শত শত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথম পাঁচ মাসে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত যেখানে মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে কেবল এই জুন মাসেই মারা গেছেন ১৩ জন। পূর্ববর্তী মাসগুলোর মধ্যে জানুয়ারিতে দুজন, ফেব্রুয়ারিতে দুজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছিল। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানির খবর আসেনি।
চলতি বছর ডেঙ্গুর আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে পুরুষদের সংখ্যা নারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি। এখন পর্যন্ত যে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী। অন্যদিকে, মোট আক্রান্ত ৫ হাজার ৯২৪ জনের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৭৯ জন এবং নারীর সংখ্যা ২ Explোর ২৪৪ জন। চিকিৎসকেরা বলছেন, সাধারণত পুরুষেরা কর্মক্ষেত্রে বা বাইরে বেশি সময় কাটানোর কারণে এডিস মশার সংস্পর্শে বেশি আসছেন। তবে নারী ও শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে জটিলতা দ্রুত বাড়ছে, তাই জ্বর হলে কোনো অবস্থাতেই অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি নিষ্কাশনই এখন এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
মন্তব্য