জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে বন্দুক হামলা, নিহত ১

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবারও এক রক্তাক্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এবার দেশটির অন্যতম একটি অফিশিয়াল ফ্যান জোনে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে চালানো এই সশস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রক্তাক্ত এই ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান জোসের সান পেদ্রো স্কয়ারে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তৈরি করা সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যান জোন এটি। ঘটনার বিবরণ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সান জোসের পুলিশ বিভাগ একটি পোস্ট শেয়ার করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বন্দুক হামলার পর ঘটনাস্থলেই একজন মারা গেছেন। অন্যজনকে আশঙ্কাজনক ও মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং আলামত সুরক্ষার্থে ওই এলাকার আশপাশের বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ম্যাচহীন সময়ে হঠাৎ স্তব্ধ ফ্যান জোন

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াতে এখন পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের ৫টি ম্যাচ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঠিক এখানেই রবিবার ছুটির দিনে এই অপ্রত্যাশিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, হামলার সময়ে ফ্যান জোনে বড় পর্দায় কোনো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল না। ফলে সেখানে সাধারণ মানুষের ভিড় অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশ কম ছিল, যা বড় ধরনের গণ-হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের এক সাংবাদিকের বরাতে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো ডটকম’ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই পুরো এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ ও সোয়াত টিম মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

টুর্নামেন্টজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নানা প্রান্তে গুলির ঘটনা

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটিই প্রথম বন্দুক সহিংসতা নয়। এর আগেও টুর্নামেন্টের শুরু থেকে বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আয়োজক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কিছুদিন আগেই ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের বেসক্যাম্প বা হোটেলের কাছাকাছি এলাকায় আচমকা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে অন্তত ৯ জন সাধারণ মানুষ আহত হন।

নিরাপত্তা ভঙ্গের এই ধারা এখানেই শেষ নয়। কানসাস সিটির মিসৌরিতে বড় ধরনের ঝামেলার পর গত ২১ জুন ম্যাসাচুসেটসের ব্রকটনেও একই রকম একটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেদিন উরুগুয়েকে হারিয়ে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক জয় উদযাপনের সময় আকস্মিক হামলায় ৫ জন গুলিতে এবং একজন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। কাকতালীয়ভাবে, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা কেপ ভার্দের আরেকটি ম্যাচের দিনও এই একই ব্রকটনে আরও ৪ জন ফুটবল অনুরাগী গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। একের পর এক এমন সহিংসতায় টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর