খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৪:২৩ পিএম

কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট বিভাগসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শনিবার প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
বুলেটিন অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নদীতেও পানির ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে, সুরমা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজার অংশে এবং সোমেশ্বরী নদী নেত্রকোনার কলমাকান্দা এলাকায় সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও দুধকুমার নদীর পানি কমে যাওয়ার পর আবারও বাড়তে পারে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করার ঝুঁকি রয়েছে।
এ অবস্থায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে উজানের ভারতের মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব বৃষ্টির পানি নদ-নদীতে প্রবাহিত হয়ে পানির স্তর আরও বাড়াচ্ছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদীগুলোর পানির চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে এবং এই প্রবণতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে কোথাও কোথাও নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে, অন্যদিকে সুরমা নদীর পানি কমলেও তা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খোয়াই ও সোমেশ্বরী নদীতেও পানির স্তর ঊর্ধ্বমুখী, যদিও মনু ও ধলাই নদীর পানি সাময়িকভাবে কমেছে। সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী দিনে তা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষ করে সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোনা অঞ্চলে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যার ফলে আশপাশের নিচু এলাকায় অল্প সময়ের জন্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে আবহাওয়া ও পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারীদের নদীসংলগ্ন নিচু জায়গায় সতর্কভাবে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে আকস্মিক পানিবৃদ্ধির কারণে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
মন্তব্য