খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল কুখ্যাত ‘পাটালি গ্রুপ’। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তোয়াক্কা না করে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা মোহাম্মদপুরের কিছু নির্দিষ্ট গলিতে এতটাই আধিপত্য বিস্তার করেছিল যে, সেখানে সাধারণ পুলিশ সদস্যরা অভিযানে ঢুকলে তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হতো। সন্ত্রাসী এই চক্রের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ শামীম পাটালিসহ ৮ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর আজ রবিবার (২৮ জুন) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব জানায়, গতকাল শনিবার গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ জানতে পারে যে, মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পাটালি গ্রুপের একদল সশস্ত্র সদস্য বড় ধরনের ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে র্যাব-২-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল মোহাম্মদপুরের বছিলা, চাঁদ উদ্যান, বাবর রোড ও রায়েরবাজার এলাকায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। অভিযানে চক্রের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী মূলহোতাসহ মোট ৮ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই গ্যাংটির নৃশংসতার ইতিহাস বেশ পুরোনো। গত বছরের ১৫ মে গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে ঢুকে আটজন মানুষকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে এই পাটালি গ্রুপের সদস্যরা। সেই লোমহর্ষক ঘটনাটি তখন দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে এই গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করলেও আইনি ফাঁকফোকরে তারা পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসে। জেল থেকে বের হয়ে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং বসিলা, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, চাঁদ উদ্যান ও বাবর রোডসহ মোহাম্মদপুরের অধিকাংশ এলাকায় পুনরায় অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুরের কিছু নির্দিষ্ট অপরাধপ্রবণ এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়। রায়েরবাজারের পাবনা গলি, ক্যান্সার গলি, সাদেক খান রোড, আজিজ খান রোড, বালুর মাঠ এবং জঙ্গল সলিমপুরের মতো গলিগুলোতে এই বাহিনীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। এসব গলির ভৌগোলিক অবস্থান ও ঘিঞ্জি পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে তারা অপরাধ করে খুব সহজেই পালিয়ে যেত। এমনকি সাধারণ থানা পুলিশ এসব গলিতে কোনো অভিযানে বা তল্লাশিতে গেলে সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর প্রতিরোধ গড়ে তুলত এবং হামলা চালাত।
র্যাব জানায়, এই নির্দিষ্ট গলিগুলোকে অপরাধমুক্ত এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ করতে এখন বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। মোহাম্মদপুর ও এর আশেপাশের এলাকাকে সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাবমুক্ত করতে র্যাবের এই নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য