খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুন ২০২৬, ১২:১৩ এএম

টাঙ্গাইল পৌর শহরের শিবনাথপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনের তৃতীয় তলা থেকে নাজমা আলম (৫১) নামের এক গৃহবধূর হাত বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে ঘরের ভেতর সোফার ওপর থেকে তাঁর এই নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নৃশংস ও রহস্যজনক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত নাজমা আলম শিবনাথপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় সরকারি ভেটেরিনারি চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই রবিবার সকালে চিকিৎসক শফিউল আলম তাঁর দাপ্তরিক কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যান। দুপুরে কাজের ফাঁকে তিনি তাঁর স্ত্রী নাজমার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ রিং হলেও ওপাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ মিলছিল না। সাধারণ সময়ে এমনটা না হওয়ায় শফিউল আলমের মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। কোনো বিপদ হলো কি না তা নিশ্চিত করতে তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে উপরে গিয়ে একটু খোঁজ নিতে বলেন।
মালিকের কথা শুনে নিচতলার ভাড়াটিয়া দ্রুত বাড়ির তিনতলায় যান। সেখানে ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি শিউরে ওঠেন। তিনি দেখতে পান, ঘরের ভেতরের একটি সোফায় নাজমা আলমের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। তাঁর দুই হাত শক্ত করে বাঁধা এবং গলায় রশি পেঁচানো ছিল। মেঝেতে ও সোফায় রক্তের দাগ দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন এবং বিষয়টি শফিউল আলমসহ আশেপাশের মানুষকে জানান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং সিআইডি দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। পরে দুপুরের দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে জানান, নিহত নারীর হাত বাঁধা এবং গলায় রশি পেঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও জানান, এই নৃশংস ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
মন্তব্য